ফনেটিক ইউনিজয়
বান্ধবী ও বাড়ি দু’টোই খোয়ালেন ম্যারাডোনা
খলিলুর রহমান

প্রেমিকের বয়স ৫৮, প্রেমিকার ২৮। অসমবয়সী এই দু’জনের সম্পর্ক যে বেশিদিন টিকবে না, সেটা অনুমিতই ছিল। নিন্দুকদের কেউ কেউ তো এমনও বলেছিল যে, স্রেফ টাকার লোভেই ম্যারাডোনার হাত ধরেছেন অলিভা! কিন্তু পেছনের লোকের সেসব নেতিবাচক কথায় কান না দিয়ে প্রেমিক ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও প্রেমিকা রোচিও অলিভা প্রেমের সাম্পান ভাসছিল প্রবল বাতাসে। তবে সেই সাম্পান ভাসলো মাত্র ৬ বছর। ৬ বছর পেরিয়েই তা ডুবে গেল মধ্যসাগরে। বাস্তব পরিণতিটা বরং নিন্দুকদের ধারণার চেয়েও ভয়াবহ। সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলার পাশাপাশি প্রেমিক ম্যারাডোনাকে বাড়ি থেকেও বের করে দিলেন প্রেমিকা অলিভা! বান্ধবীর গলা ধাক্কায় আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি সেই বাড়ি থেকে বিতাড়িত হলেন, প্রিয়তমাকে সুখী রাখতে যে বাড়িটি কিনে দিয়েছিলেন তিনিই। সম্পর্কের সুতো ছিঁড়ে যাওয়ার ইঙ্গিতটা বান্ধবী অলিভাই দেন প্রথমে। আর্জেন্টিনার এক টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজেকে ‘সিঙ্গেল’ বলে দাবি করেন অলিভা। তার সেই কথার সূত্র ধরে গণমাধ্যম আবিষ্কার করে সত্যি সত্যিই ম্যারাডোনা-অলিভার প্রেমের সাম্পান ডুবে গেছে। সম্পর্কের পাট চুকিয়ে দু’জনের পথ হয়ে গেছে আলাদা। অতি-অন্তরঙ্গ সম্পর্ক হুট করেই ভেঙে যাওয়ার দায়টা পুরোই বান্ধবী অলিভার। প্রেমিক ম্যারাডোনা নির্দোষ! তিনি কিছুতেই লাস্যময়ী সুন্দরী প্রেমিকাকে হারাতে চাননি।
সাবেক স্ত্রী ক্লদিয়া ভেল্লাফানের সঙ্গে দীর্ঘ ১৭ বছরের বৈবাহিক সম্পর্ক চুকে যাওয়ার পর বেশ কিছুদিন একাই চলেছেন ম্যারাডোনা। কিন্তু ২০১২ সালে হঠাৎই তার জীবনে আসেন আর্জেন্টিনার সাবেক নারী ফুটবলার অলিভা। আর্জেন্টিনাতেই এক অনুষ্ঠানে দেখা হয় তাদের। এরপর পরিচয়। পরিচয় দ্রুতই গড়ায় সম্পর্কে। সেই সম্পর্ক এতোটাই গাঢ় ছিল যে, কেউ কাউকে ছাড়া এক মুহূর্ত থাকেননি। ম্যারাডোনা যেখানেই গেছেন, প্রিয়তমার হাতটা বাঁধা থেকেছে তার হাতে। অলিভাও প্রেমিকের হাতটা শক্ত করেই ধরে রেখেছিলেন সব সময়।
শুধু সঙ্গে নিয়ে দেশ-দেশান্তরে ঘুরে বেড়ানো নয়, প্রিয়তমাকে সুখী করতে সবকিছুই করেছেন ম্যারাডোনা। অলিভার জীবনটা সুখে ভরিয়ে দিতেই রাজধানী বুয়েন্স এইরেসের অভিজাত এলাকা ভিল্লা ভেস্তায় চড়া দামে বিলাসবহুল এক বাড়ি কিনে দেন। বাড়িটা কিনেও আবার প্রেমিকার নামেই। প্রবল ভালোবাসার টানে ভুলটা করেছিলেন সেখানেই। সম্পর্ক শেষ করে সেই বাড়ি থেকেই ম্যারাডোনাকে বের করে দিলেন অলিভা।
সম্পর্কে এতো বড় ফাটলের কারণ এখনো আবিষ্কার করতে পারেনি গণমাধ্যম। তবে বলা হচ্ছে, অলিভা দেশ আর্জেন্টিনা ছেড়ে মেক্সিকোয় যেতে রাজি নন। সম্প্রতি মেক্সিকান ক্লাব দোরাদোসের কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন ম্যারাডোনা। স্বাভাবিকভাবেই পেশাদারি দায়িত্ব পালন করতে আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বরকে থাকতে হচ্ছে মেক্সিকোয়। তিনি চেয়েছিলেন বান্ধবী অলিভাও তার সঙ্গে থাকুক। কিন্তু গণমাধ্যমের খবর, অতি ফ্যাশন সচেতন অলিভা মেক্সিকোয় যেতে রাজি নন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির শেষ পরিণতি হিসেবে সম্পর্কের সুতোটাই এক হেঁচকা টানে ছিঁড়ে ফেলেছেন তিনি। যদিও ম্যারাডোনা এখনো সম্পর্ক ছেদের বিষয়ে কোনো কিছু বলেননি। কে জানে, হয়তো সুন্দরী প্রিয়তমাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন!

Disconnect