ফনেটিক ইউনিজয়
দেশের ফুটবলে আধুনিকতার ছোঁয়া
ক্রীড়া প্রতিবেদক

ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ফুটবলের জাতীয় দলের পাশাপাশি ক্লাবগুলোতেও গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) প্রযুক্তি যোগ হয়েছে বেশ আগে থেকে। ভারতে ‘ইন্ডিয়ান সুপার লিগ’ (আইএসএল) খেলা ক্লাবগুলোও এখন জিপিএসের আওয়তায় রয়েছে। বাংলাদেশ এদিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও দেশের ফুটবলেও এখন আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যদিয়ে চলা বাংলাদেশের জাতীয় দল দ্রুতই জিপিএস পদ্ধতির সঙ্গে নিজেদের পরিচিত করতে চাইছে। যদিও দেশে এই বিপ্লব প্রথম আনে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। তাদের দেখানো পথে, নিজেদের ক্লাবকে আধুনিক করতে জিপিএস প্রযুক্তিকে সাঙ্গ করে  গত মৌসুমে পেশাদার লিগে অভিষেক ঘটে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের। চলতি  মৌসুমে এই প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয় এএফসি (এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন) লাইসেন্সধারী ক্লাবটি। এবার এ প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে জাতীয় দলের ফুটবলাররা। নতুন মৌসুমে জাতীয় দলের ফুটবলাররা পাচ্ছেন জিপিএস সিস্টেম। ইতোমধ্যেই এটি দেশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ। একইসাথে জানুয়ারিতে কোচিং স্টাফদের সঙ্গে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে ফিটনেস ট্রেনার লিন্ডসে পল ডেভিস। প্রযুক্তির ব্যবহারে আধুনিক হওয়ার অপেক্ষায় এখন জাতীয় ফুটবল দল।
উন্নত বিশ্বে পুরনো প্রযুক্তি হলেও, বাংলাদেশে ক্লাব ফুটবলের পর জাতীয় দল এর ব্যবহারে ফুটবলারদের পারফরম্যান্স ও শারীরিক শক্তিমত্তার যাচাই ও বিশ্লেষণ করতে পারবে। জিপিএস খেলোয়াড়দের জন্য অনেক জরুরি বলেই মনে করেন জাতীয় দলের ফুটবলাররা। ফুটবলারদের ফিটনেসের মাত্রা, গতি  ও আন্তর্জাতিক মান থেকে কত পিছিয়ে সেটাও দেখা যাবে এই পদ্ধতিতে। কোন ফুটবলার কত দ্রুত দৌড়ায়, কত জায়গায় কাভার করে, শারীরিকভাবে কত শক্তিশালী জানা যাবে এগুলোও। তাছাড়া মাথা, হাত ও পায়ের মুভমেন্ট নির্ণয় করা যায় জিপিএস পদ্ধতিতে। বিশ্বের বেশির ভাগ পেশাদার ক্লাবই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে। পদ্ধতিটি খেলোয়াড়দের অনুশীলনের সময় সাধারণত ব্যবহার করা হয়। ফুটবলারের গায়ে (ঘাড়ে) এক ধরনের কাপড় পরানো হয়। এরপর নির্ণয় করা হয় ফুটবলারদের ফিটনেস ও গতি।
আবু নাঈম সোহাগ বলেন, ‘যদিও জাতীয় দলের আগে ২ টি ক্লাব জিপিএস পদ্ধতি বাংলাদেশে নিয়ে আসে। বাফুফে কিছুটা বিলম্বে হলেও ৪৫টি জিপিএস ডিভাইস ক্রয় করেছে। আশা করি, জানুয়ারি থেকেই জাতীয় দলের ফুটবলাররা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে। এতে আমাদের  খেলোয়াড়দের মান বাড়ার পাশাপাশি ফিটনেসেও উন্নতি হবে। আধুনিক ফুটবলের সঙ্গে খেলোয়াড়দের পরিচিত করতে পারব’।
সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আধুনিক ফুটবলের সাথে পরিচিত হতে হলে জিপিএস পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই। ফুটবলারদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে এই প্রযুক্তি আনা হয়েছে। গতবছর দেশের পেশাদার লিগে স্পোর্টিং ক্লাব দেশের তারকা ফুটবলারদের নিয়ে বড় দল সাজিয়েছি। প্রথমবার এএফসি কাপ খেলেছি। ফুটবলারদের ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিজগুলো নিশ্চিত করতে চেয়েছি। সেখানে আধুনিক প্রযুক্তি হিসেবে জিপিএস এর ব্যবহার ছিলো অনস্বীকার্য’।

Disconnect