ফনেটিক ইউনিজয়
জোয়ান বায়েজ বাংলাদেশের অনন্য বন্ধু
বিনোদন প্রতিবেদক

মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে বাংলাদেশ যেসকল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন  পেয়েছে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ ছিলো সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ারে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের মধ্যদিয়ে পণ্ডিত রবিশংকর ও বিটলস তারকা জর্জ হ্যারিসন এই অসাধ্যকে সাধন করেন। ১৯ টি গানের সাজানো সেই ডকুমেন্টারিতে জোয়ান বায়েজের অংশগ্রহণের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি সেখানে উপস্থিত থাকতে  পারেননি। তবে ম্যাডিসন স্কয়ারে সেদিন অংশ না নিলেও ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালো রাতে বাংলাদেশের দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর রক্তপিপাসু হিংস্র পাকিস্তানি বাহিনীর ঝাঁপিয়ে পড়ার পটভূমিতে তিনি সৃষ্টি করেন তার অনবদ্য ‘সং অব বাংলাদেশ’। এ ঘটনায় ব্যথিত ও আহত হয়ে গিটার হাতে নিয়ে সুর তোলেন কণ্ঠে। যুদ্ধের সময় একাধিক মঞ্চে এ গান গেয়ে তিনি আমাদের ঋণের বোঝা আরও ভারী করেছেন। যুদ্ধবিরোধী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঙ্গে নিয়ে গানের অনুষ্ঠান করে জনমত গঠন করেছেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। তহবিল সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশের নিপীড়িত মানুষের জন্য। আমেরিকার মানুষের সামনে তুলে ধরেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের কথা, বর্বরতা ও গণহত্যার কথা। ভিনদেশিদের বেদনায় সমব্যথিত হয়ে বায়েজ গভীর ভালোবাসা দিয়ে ‘সং অব বাংলাদেশ’ গানটি এতটা প্রাণস্পর্শী করে তোলেন যে, বিদেশি একজনকে মন্তব্য করতে দেখা যায়, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে জোয়ান বায়েজের এই গানটি খুব ভালোবাসি। গানটি এতটা দরদ দিয়ে গাওয়া হয়েছে যে এটি সবসময় আমাকে নাড়া দেয়।’ কথাটি মিথ্যে নয়। গানটি যতবারই দেখা হয় ততবারই চোখ ভিজে যায়। শরীরের সমস্ত লোম দাঁড়িয়ে যায় শিহরণে।
৭৭ বছর বয়সী জোয়ান বায়েজের জন্ম আমেরিকাতে। তিনি বর্তমানে থাকেন ক্যালিফোর্নিয়াতে। ফোক গান দিয়ে শুরু হলেও তিনি রক, পপসহ সব ধরনের গানই গেয়েছেন। তবে সারাটা জীবন ধরে মানব মুক্তির গান  গেয়েছেন। মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার জোয়ান গানের মাধ্যমে তার বাণী পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বময়। শুধু বাংলাদেশই নয়, ইরাক যুদ্ধে, ভিয়েতনাম যুদ্ধে অর্থাৎ যেখানেই কোনো মহামারী দেখা  গেছে সেখানেই তিনি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। শান্তির জন্য আন্দোলনে সারা জীবন উৎসর্গ করেছেন। মানবতাবাদী আচরণের জন্য জেলেও যেতে হয়েছে এই গায়িকাকে। বাংলাদেশের অনন্য এক বন্ধু মানবতাবাদী জোয়ান বায়েজ। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের মানুষ  চিরকাল তাঁকে স্মরণে রাখবে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায়।

Disconnect