ফনেটিক ইউনিজয়
সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে ইসিকেই

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দল অংশ নেয়ায় জনমনে নির্বাচন নিয়ে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে ম্লান হতে শুরু করেছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি’র প্রার্থীদের ওপর এবং তাদের গাড়িবহরে হামলা, প্রচারে বাধা দেয়ার ঘটনা ঘটে চলেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার মুখে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার কথা উচ্চারিত হলেও নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন তার ঠিক উল্টো কথা। তার ভাষ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কথাটা এখন অর্থহীন কথায় পর্যবসিত।
সরকারি দলের লোকজন নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেও বিরোধী পক্ষ অনেক ক্ষেত্রে মাঠেই নামতে পারছে না। সংঘাত-সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। বিরোধী দলের প্রার্থীরা শুধু সরকারি দলের হাতেই লাঞ্ছিত ও নিগৃহীত হচ্ছেন না; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তাদের প্রতি চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করছে বলে অভিযোগ আছে। অথচ এসব ঘটনার জন্য যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি নির্বাচন কমিশনকে।
নির্বাচনের আর সপ্তাহ দু’য়েক বাকি, কিন্তু বিরোধী নেতা ও প্রার্থীদের ওপর এখনো একের পর এক যেসব দমন-পীড়ন, হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটছে, তাকে স্বাভাবিক নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি বলা যাবে না। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই গোটা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো কমিশনের আওতায় কাজ করছে। সেক্ষেত্রে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর এই হামলার দায়ও কমিশনকে নিতে হবে। নির্বাচনের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরির স্বার্থে ভোটকেন্দ্রিক সব সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বন্ধে ইসি’র নিষ্ক্রিয়তা কাটিয়ে ওঠা জরুরি। তা না হলে নষ্ট হবে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ।
একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা আচরণে একতরফা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করে তোলার গুরুদায়িত্বটি ইসিকেই সঠিকভাবে পালন করতে হবে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে এমন এক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে, যেন নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের সন্ত্রাস, ভয়-ভীতি ও প্রভাব বিস্তারের মতো ঘটনা না ঘটে। আমরা আশা করবো, নির্বাচন কমিশন সামনের দিনগুলোতে শতভাগ নিরপেক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে সচেষ্ট হবে।

আরো খবর

Disconnect