ফনেটিক ইউনিজয়
অচলপ্রায় দুই চিনিকল
তাপস কুমার, নাটোর

এক চিনিকলে কারিগরি ত্রুটি ও অপর চিনিকলে শ্রমিক অসন্তোষ। মৌসুমের শুরুতে উৎপাদনে গিয়েই ধাক্কা খেল নাটোরের দুই চিনিকল।
গত ১৭ নভেম্বর ২০১৮-১৯ মৌসুমের প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে আখ মাড়াই কার্যক্রম শুরু হয় নাটোর চিনিকলে। তবে উৎপাদন শুরুর ১১ ঘণ্টা পরই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায় চিনিকলটি। পরে ৮ ঘণ্টা পর উৎপাদন চালু হলেও গত ২৯ নভেম্বর রাতে চিনিকলটির বয়েলিং সেকশনের চারটি তরল গুড়ের ট্যাংক ধসে পড়লে সেই থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে চিনিকলটির।
অপরদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে লালপুরের নর্থ বেঙ্গল চিনিকলে। চলতি বছরের ২২ নভেম্বর বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের খামার শ্রমিকদের মজুরি পুনঃনির্ধারণ সংক্রান্ত বোর্ড দৈনিক হাজিরা পুনঃনির্ধারণ করে। এতে সাধারণ (হালকা) কাজের জন্য প্রতিদিন ২০০ টাকার পরিবর্তে ২৫০ টাকা এবং ওভারহেড (ভারী) কাজের জন্য ২১০ টাকার পরিবর্তে ২৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত পরিমাণ মজুরি বৃদ্ধিতেও শ্রমিকরা সন্তুষ্ট হয়নি।
চিনিকলের শ্রমিক ঐক্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম বিপ্লব বলেন, আমরা ওভারহেড সেকশনের ভারী কাজের জন্য ৫০০ টাকা ও সাধারণ সেকশনের হালকা কাজের জন্য ৪৫০ টাকা মজুরির দাবি করেছি। অথচ কায়িক শ্রমের এ দুইটি সেকশনের জন্য মজুরি বাড়ানো হয়েছে মাত্র ৫০ টাকা যা রীতিমতো উপহাস সাড়ে ৫ হাজার শ্রমিকের সঙ্গে। দাবি মানা না হলে ৮ টি খামারের শ্রমিকরা লাগাতার কর্মবিরতিতে যাবে।
এ ব্যাপারে নর্থ বেঙ্গল চিনিকলের জিএম (খামার) ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, শ্রমিকরা আল্টিমেটাম দিয়ে কাজ বন্ধ করলে ফার্মগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, চিনিকল না। বছরখানেক পরে আবারো তাদের মজুরি বৃদ্ধির আশ্বাস দেয়া হয়েছে চিনিকলের পক্ষ থেকে।

Disconnect