ফনেটিক ইউনিজয়
কেঁচো সারে লাভবান কৃষক
জিয়াউর রহমান, নেত্রকোনা

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সর্বত্র দিন দিনই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার। কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে এসব কেঁচো সার উৎপাদন করছেন। বিশেষ করে কৃষাণীরা অল্প পরিশ্রম ও পুঁজিতে বাড়িতে বসেই কেঁচো সার উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন।
এ লক্ষ্যে কেন্দুয়া উপজেলার দলপা ইউনিয়নের বেখৈরহাটি ব্লকে তিনজন কৃষক ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে তাদের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) উৎপাদন শুরু করেন।  বর্তমানে বেখৈরহাটি ব্লকের ৬টি গ্রামে ১০০ জনেরও বেশি কৃষক কেঁচো সার উৎপাদন করে নিজেরা জমিতে ব্যবহার করছেন এবং অতিরিক্ত সার বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
বেখৈরহাটি বাজারের কেঁচো সার ব্যবসায়ী মো. রাকি এমরান জানান, এ সার উৎপাদন করে নিজের জমিতে ব্যবহার করছি এবং অতিরিক্ত সার বিক্রি করে আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছি। প্রথমে আমরা দুই তিনজন কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেছিলাম। আমাদের দেখে এখন বেখৈরহাটি এলাকায় প্রায় ১৫০ জন কৃষাণ-কৃষাণী কেঁচো সার উৎপাদন করে নিজেদের জমিতে ব্যবহার করছেন আবার বিক্রিও করছেন।
বেখৈরহাটি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আলী আখছার খান জানান, কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদন করে একদিকে যেমন নিজেদের জমিতে প্রয়োগ করে সারের চাহিদা মেটাচ্ছেন, অপরদিকে অতিরিক্ত সার বিক্রি করে আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন। এ সার মাটির উর্বরতা ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করে। শুধু তাই নয়, সাধারণ কম্পোস্টের চেয়ে কেঁচোর মলে উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ বেশি থাকে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চন্দন কুমার মহাপাত্র জানান, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের সবখানেই ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদনে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তারা নিজেরাই কেঁচো সার উৎপাদনে খুব আগ্রহী হচ্ছেন। কেঁচো সার সব ধরনের ফসলেই ব্যবহার করা যায়।

Disconnect