ফনেটিক ইউনিজয়
নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন পুরনোদের প্রতিই আস্থা
এম ডি হোসাইন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-বিএনপি বড় দুই দল এবারও পুরনো, অনেক ক্ষেত্রে বিতর্কিত এমপিদেরই বেশি মনোনয়ন দিয়েছে। ফলে নতুনদের সংখ্যা বাড়েনি। এ নিয়ে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ কাজ করছে। অনেকে মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। তবে চরম বিতর্কিত কিছু পুরনো এমপিকে বাদ দিয়ে নতুন প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আর বিএনপি’র পুরনো সিনিয়র নেতাদের নামে শত শত মামলা থাকায় বাধ্য হয়ে নবীন কিছু নেতাকে মনোনয়ন দিয়েছে।
জানা যায়, ৩৮ জনের মতো আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য এবার বাদ পড়েছেন এবং নতুন মুখ এসেছে ৪৬ জনের মতো। ক্রিকেটার মাশরাফির প্রার্থী হওয়ার চমক এসেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে বড় কোনো ঝুঁকি নেয়নি। ২০১৪ সালে একতরফা যে নির্বাচন হয়েছিল, তাতেও আওয়ামী লীগের আগের সংসদের ৪৮ জন সদস্য বাদ পড়েছিলেন। কক্সবাজারের আব্দুর রহমান বদিসহ বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে দু’-একজনকে বাদ দেয়া হলেও তাদের পরিবার থেকেই অন্য সদস্যকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কোনো মন্ত্রী বা এমপি বাদ পড়লে তারা দুর্নীতির কারণে বাদ পড়েছেনÑ এমন আলোচনার আশঙ্কাতেও আওয়ামী লীগ সেই ঝুঁকি নেয়নি।
এছাড়াও আওয়ামী লীগ টানা দশ বছর ক্ষমতায় থাকার কারণে যেসব জায়গায় মাঠ পর্যায়ে কোন্দল বেড়েছে, সেটি সামাল দেয়ার ব্যাপারও মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনা করেছে। যারা জিতবেন বলে দলটি পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছে, তাদেরকেই তারা অগ্রাধিকার দিয়েছে। ফলে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের জমি দখল, নিয়োগ বাণিজ্য, নিজ দলের নেতাকর্মীদের প্রতি অত্যাচারসহ নানা ধরনের অভিযোগ থাকলেও তাকে আবারও মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম বলেছেন, এবার নির্বাচনে ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই তারা দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী রয়েছে ২৪১ আসনে। বিএনপি’র শরিকরা দু’টি ছাড়া বাকিগুলোতে লড়বে ধানের শীষ প্রতীকে। এ হিসাবে আসন্ন নির্বাচনে ২৯৮টি আসনে থাকছে বিএনপি’র ধানের শীষ। কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তাকে সমর্থন দিয়ে বিএনপি প্রার্থী প্রত্যাহার করেছে। ফলে জামায়াত ২১টি আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়বে। এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ শুধু নিজে লড়বেন তার দলের ছাতা প্রতীকে। তবে বিএনপি অল্পকিছু আসনে মামলার কারণে পুরনোদের মনোনয়ন দিতে না পারায় নতুনদের মনোনয়ন দিয়েছে। এরমধ্যে শেরপুর-১ আসনে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে কনিষ্ঠপ্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকাকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। এ আসনে বিএনপি’র মূল প্রার্থী ছিলেন হযরত আলী। তিনিসহ বিএনপি’র তিন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়েছে সানসিলার। তিনিই এ আসনে বিএনপি’র একমাত্র প্রার্থী। সানসিলা স্থানীয়দের মধ্যে ডা. প্রিয়াংকা নামে পরিচিত। এদিকে সিরাজগঞ্জ-১ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন কণ্ঠশিল্পী কনক চাঁপা। এমন প্রায় ৩০ জন নতুন প্রার্থী বিএনপি থেকে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের আসন বণ্টনে কোনো জটিলতা হয়নি। যেসব আসনে তারা যাদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা মনে করেছেন, তাদেরকেই মনোনয়ন দিয়েছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বেশির ভাগ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী জয়লাভ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জামায়াত বাদে দুই জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০ দলীয় জোটের আটটি নিবন্ধিত দলকে ২৭টি আসন ছেড়েছে বিএনপি। জামায়াতসহ অনিবন্ধিত সাতটি দলকে ছেড়েছে ৩২ আসন। নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরাম ৭, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও জেএসডি ৪টি করে আসন পেয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের অনিবন্ধিত দল নাগরিক ঐক্য পেয়েছে ৪টি আসন। সবমিলিয়ে ঐক্যফ্রন্ট শরিকদের ১৯টি আসন ছেড়েছে বিএনপি। এ দলগুলোর সব প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করবেন।

Disconnect